জিয়া পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন: হানিফ

0

ডেস্ক রিপোর্ট: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, ৭১ এর ৭মার্চ বঙ্গবন্ধু রেইসকোর্স ময়দানে এক মহাকাব্য সৃষ্টি করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বাঙালির মনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। সেই আগুনে পালাতে হয়েছিলো পাকিস্তানিদের। আজ মীর্জা ফখরুলরা ৭মার্চ পালন করছেন। তবে এটা তাদের রাজনৈতিক কুটকৌশল। কারণ তারা জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর সমকক্ষ করা চেষ্টা করছে। অথচ জিয়া পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন হানিফ। কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজিত বর্ণাঢ্য ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার। মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, আমি সাংগঠনিক কাজে দেশের সব জেলায় গিয়েছি। অধিকাংশ উপজেলাতেও ঘুরেছি। তবে জাতির পিতার জন্মদিনে কুমিল্লায় সুশৃঙ্খল আয়োজন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শৃদ্ধা জানিয়ে হানিফ বলেন, জাতির পিতা কিংবা বঙ্গবন্ধু হওয়ার পথটা মসৃণ ছিল না। ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধু মানুষের অধিকার আদায়ে স্বোচ্চার ছিলেন। ছয় দফাই ছিলো স্বাধীনতার বীজ। বঙ্গবন্ধু সেই ছয় দফা বাস্তবায়নের শুরুতেই উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠে গোটা জাতি। এ কারণে কারাবরণ করতে হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে। অনুষ্ঠানের শুরুতে সমস্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর অতিথিরা শিশুদের নিয়ে ১০১ পাউন্ডের কেক কাটেন। এ সময় অতিথিরা বেলুন উড়িয়ে দেন। হাজার হাজার লাল নীল হলুদ বেলুনে বর্ণিল হয়ে উঠে গোটা স্টেডিয়াম। শিল্পকলা একাডেমির শিল্পিরা পরিবেশন করেন থিম সং। ফুটানো হয় ১০১ আতশবাজি। এরপর শুরু হয় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন শিল্পীদের সংগীত পরিবেশন। সভাপতির বক্তব্যে আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন একদিন বাঙালিরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। সেই স্বপ্ন দেখার কারণে ২৩ বছর কারাগারে থাকতে হয়েছিলো তাকে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো।’ সেই নেতার ডাকে আমরা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। দেশ স্বাধীন হলো। কিন্তু হায়েনারা বঙ্গবন্ধুকে বাঁচতে দিলো না। তবে এখন আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছি। আজ মনে হয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জজ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তাহের, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম সরকার প্রমুখ।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.