পশ্চিম বঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন: হয়তো শেষ হাসিটা মমতার

0

কোলকাতা প্রতিনিধি: হিংসা, রক্তপাত, প্রবল বাকবিতণ্ডায় শেষ হয়েছে বাংলার ঐতিহাসিক নির্বাচন । রাত পোহালেই, রবিবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা (West Bengal Election Results)। নির্দ্বিধায় বলা যায়,এই ফলের উপর নজর থাকবে গোটা দেশ মায় বহির্বিশ্বেরও। পর্যবেক্ষকরা বলছেন,ভারতের রাজনীতির রুটম্যাপ বদলে দিতে পারে এই নির্বাচনের ফলাফল। ২০২১ বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে আটটি দফায়। কোভিড পরিস্থিতির মধ্য়ে দফায় দফায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের শাসকদলের বিরোধিতা বেনজির জায়গায় পৌঁছেছে। হুহু করে করোনা পরিস্থিতি বাড়ায় শেষ দফাগুলির সংযুক্তিকরণ চেয়ে বারংবার কমিশনকে চিঠি দিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু কমিশন অনড়ই থেকেছে নিজের সিদ্ধান্তে। প্রথম দফায় ভোট হয়েছে ৫ জেলার ৩০ আসনে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হয়েছে চার জেলার ৩০ আসনে। ১ এপ্রিল এই দফাতেই ‌নন্দীগ্রামে লড়াই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারীর। তৃতীয় দফায় ভোট হয় তিন জেলার ৩১ আসনে। চতুর্থ দফায় ভোট হয়েছিল ৫ জেলার ৪৪ আসনে। পঞ্চম দফায় ভোট হয়েছিল ৫ জেলার ৪৫ আসনে। ষষ্ঠ দফায় ভোট হয়েছে চার জেলার ৪৩ আসনে। সপ্তম দফায় ভোট হয়েছে ৫ জেলায় ৩৬ আসনে। অষ্টম তথা শেষ দফায় ভোট হয়েছে ৪ জেলার ৩৫ আসনে। কলকাতা ও তদসংলগ্ন এলাকাগুলিতে ভোট হয়েছে মূলত শেষ তিনটি দফায়। ভোট পর্বে সবচেয়ে রক্তাক্ত হয়েছে ১০ এপ্রিল চতুর্থ দফা। এই দফাতেই কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয় চার গ্রামবাসীর। ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে প্রথম থেকেই নেতিবাচক অবস্থানে ছিলেন। এই ঘটনার পরে তিনি রীতিমতো ক্রোধে ফেটে পড়েন। এই ঘটনা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে কমিশনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সায়ন্তন বসু, রাহুল সিনহারা। চতুর্থ দফার ঘটনায় নড়েচড়ে বসে কমিশন। পঞ্চম দফাতেই সবচেয়ে বেশি বাহিনী দেখা যায়। এই দফায় ১০৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ষষ্ঠ দফাতে ছিল ৯২৪ কোম্পানি বাহিনী। সপ্তম দফায় ছিল ৭৯১ কোম্পানি বাহিনী। অষ্টম দফায় ভোট হয়েছে ৭৫৩ কোম্পানি বাহিনী দিয়ে। তা সত্ত্বেও বিক্ষিপ্ত হিংসা এড়ানো যায়নি। এই আট দফার সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্ত যদি শীতলকুচির ঘটনা হয়, তবে ক্লাইম্যাক্স নন্দীগ্রামের বয়ালের ঘটনা। ওই বুথে গণ্ডগোলের খবর পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটে যান। তিনি নিজে সেখানে বসেছিলেন দু ঘণ্টার বেশি সময়। আইপিএস অফিসার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে তাঁর বাক্যবিনিময় ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। এবারে শুরু থেকেই নির্বাচনের অভিমুখ হিসেবে তৃণমূল রেখেছিল বাঙালি বনাম বহিরাগতদের লড়াইকে। বিজেপির সর্বভারতীয় স্তরের নেতাদের আসা যাওয়া, বাইরের রাজ্য থেকে বহু উদ্যোক্তাদের নিয়ে আসা, মনীষিদের নিয়ে তথ্যের ভুলচুককে হাতিয়ার করে এগোচ্ছিল তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলতে থাকেন সব কেন্দ্রেই তার দলের প্রার্থী আসলে তিনি। উন্নয়নই ছিল তার অস্ত্র। তৃণমূল স্লোগান বেঁধেছিল বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলে এসেছেন, তৃণমূল আসলে চাইছে মহিলা ও যুব ভোটে মসনদ দখলের যুদ্ধে হ্যাট্রিক করতে। অন্য দিকে বিজেপির হাতিয়ার ছিল আমফান দুর্নীতির অভিযোগ, আর বিখ্যাত সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। দুই দলই চেয়েছে তফশিলি ভোট ব্যাঙ্ককে কাজে লাগাতে। আর সংযুক্ত মোর্চার ইউএসপি ছিল বহু তরুণ মুখ। বাহুবল ছিল নতুন জোট সঙ্গী ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট। কিন্তু পাঁচটি দফা হতেই নির্বাচনের অভিমুখ মোড় ঘুরতে শুরু করে। দেশ জুড়ে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভেঙে পড়ছে, আঘাত এড়াতে পারেনি বাংলাও। প্রতিদিন হুহু করে বেড়েছে করোনা রোগীর সংখ্যা। বেড়েছে অক্সিজনের অভাব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বেহাল পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রের অব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন, পাশাপাশি প্রশ্ন করেছেন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে। ভোটপর্ব মিটলে আদালতে যাওয়ার কথাও শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। এভাবেই রক্তে-ভয়ে-দোলাচলে শেষ হয়েছে বাংলার নির্বাচন। আগামিকাল ফল ঘোষণা হয়ে গেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে কোনও এক পক্ষ। যদিও উচ্ছ্বাস দেখাতে পারবে না, কারণ বিজয়োৎসবেও কমিশনের না। আর মসনদে যেই বসুক, আগামী খুব মসৃণ হবে না, কারণ সেই করোনা, সামনে লড়াই বিস্তর। তবে তৃণমূলের সমর্থকরা বলছেন বিজয়ের হাসি মমতারই। সূত্র: নিউজ১৮

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.