পুরো দেশে লকডাউন: কঠোর নির্দেশনা

0

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় আগামী এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ৩ এপ্রিল শনিবার দুপুরে এ ঘোষণার কথা জানান। প্রতিমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, দ্রুত বেড়ে যাওয়া করোনা সংক্রমণ রোধ করতে সরকার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তিনি আরও জানান, তবে লকডাউনে শিল্প-কলকারখানা খোলা থাকবে এবং সেগুলোতে শিফটিং ডিউটি চলবে। জরুরি সেবার প্রতিষ্ঠান ছাড়া মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে। গত কয়েক দিন ধরে করোনা সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সরকার লকাউনের চিন্তাভাবনা করছে। করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ২ এপ্রিল পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে নয় হাজার ১৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের সংখ্যা ছয় লাখ ২৪ হাজার ৫৯৪ জন। গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে শুরু করে ৬৬ দিনের লকডাউন ছিল সারা দেশে। এ সময়ে জরুরি ছাড়া সব যানবাহন বন্ধ ছিল। এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী সোমবার ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে সরকার লকডাউন ঘোষণা করছে। সকালে ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান। এদিকে খুলনায় সন্ধ্যা ৭টার পর বাজার ও দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্র, পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ রাখাসহ ৫ দফা নির্দেশেনা দেওয়া হয়েছে। তবে, ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ওষুধের দোকান সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। ৩ এপ্রিল শনিবার খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এ সংক্রান্ত এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। আগামী ৫ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে খুলনা জেলার করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও প্রতিরোধসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় বাজার ও দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনসমাগম, সামাজিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল, পর্যটন, বিনোদন কেন্দ্রে জনসাধারণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকরণের লক্ষ্যে খুলনা জেলার করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও প্রতিরোধসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, খুলনা জেলার দাকোপ, পাইকগাছা, কয়রা উপজেলাধীন সুন্দরবন কেন্দ্রিক সকল ধরনের পর্যটন কার্যক্রম ও পর্যটকদের দর্শন বন্ধ রাখতে হবে। সুন্দরবন কেন্দ্রিক ট্যুর আয়োজনকারীদেরকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ট্যুর কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হলো। একই সঙ্গে খুলনা জেলা ও মহানগরের সকল ধরনের পর্যটন কেন্দ্র, পার্ক, পিকনিক স্পট ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হবে। আরও উল্লেখ করা হয়, ক্লিনিক, হাসপাতাল, ওষুধের দোকান ব্যতীত অন্যান্য সকল দোকান, বাজার প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সন্ধ্যা ৭ টার পর কোনো দোকান, বাজার খোলা থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খাবারের দোকান রাত ৮ টা পর্যন্ত এবং ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ওষুধের দোকান সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। অন্যদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সাধারণ ছুটি আরো ১০ দিন বাড়িয়েছে সরকার। ভিন্ন নির্দেশনা পালন সাপেক্ষে আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে। তবে ৬ মে বুদ্ধ পূর্ণিমা থাকায় ছুটি থাকবে ৬ মে পর্যন্ত। বিকেলের মধ্যে এ ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন আজ বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত ছুটি বর্ধিত করা হয়েছে। ৬ মে বুদ্ধ পূর্ণিমা থাকায় ছুটি থাকবে ৬ মে পর্যন্ত। উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়ার পর গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল এবং পরে ৫-৯ এপ্রিল, পরে ১৪ এপ্রিল এবং সবশেষ ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছিল। লকডাউনেও যা খোলা থাকবে: দেশে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বিষয়টি নিশ্চিত করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, আপাতত সাত দিন লকডাউন দিচ্ছি। আশা করছি, এই সাত দিন মানুষকে ঘরের মধ্যে রাখতে পারলে সংক্রমণ রোধ করতে পারব। না নয় সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে যাবে। মানুষের নানা বিষয় আছে, সেগুলো সাত দিন লকডাউনের শেষের দিকে বিবেচনা করব, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেব। আপাতত সাত দিন থাকবে। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় লকডাউন কিংবা যে কোনো পরিস্থিতিতে টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকবিলায় টিকাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। করোনা ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই অবস্থায় যত দ্রুত ও যত বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে ততই মঙ্গল। সরকারে পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সে কাজই করছে। এদিকে বৈজ্ঞানিক বিবেচনা থেকে লকডাউন দিলে সেটা কমপক্ষে ২ সপ্তাহ হওয়া উচিত, এক সপ্তাহের লকডাউন স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করেছেন হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের সুপ্তিকাল ১৪ দিন। অর্থাৎ করোনা ভাইরাস শরীরে ১৪ দিন পর্যন্ত ঘাপটি দিয়ে থাকতে সমর্থ। শরীরে প্রবেশের ১৪তম দিনেও ভাইরাসটি রোগ তৈরিতে সক্ষম। এজন্য বৈজ্ঞানিক বিবেচনা থেকে লকডাউন দিলে কমপক্ষে ২ সপ্তাহ হওয়া উচিত। একসপ্তাহের লকডাউন স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। ৩ এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার শাহাদত আলী বলেন, সোমবার থেকে সাত দিন যাত্রীবাহী সব ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে তবে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.