বই উৎসবের বিকল্প খুঁজছে

0

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় এবার হচ্ছে না বই উৎসব। তবে বই উৎসব না হলেও নতুন বই কিভাবে শিশু-কিশোরদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায় সে ব্যাপারে পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে এবার উৎসব না হলেও নতুন বইকে ঘিরে আনন্দের কোনো কমতি থাকবে না। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘করোনা ঝুঁকি কমে না যাওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই খুলে দেওয়া সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে আমরা যদি বই উৎসব না করতে পারি তাহলে উৎসবের আনন্দ থেকে যেন শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত না হয় সেই চেষ্টা থাকবে। বছরের প্রথম দিনেই যেন সবার হাতে বই পৌঁছে দেওয়া যায় আমরা সেই পরিকল্পনা করছি।’ এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নববর্ষের দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে এবার ছাপানো হচ্ছে প্রায় ৩৬ কোটি বই। এসব বই ছাপানোর কাজটি করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ইতোমধ্যেই প্রায় ৫ কোটি বই পাঠিয়েও দেওয়া উপজেলা পর্যায়ে। এনসিটিবি চেয়ারম্যান নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, ‘এক দশক ধরে আমরা উৎসবটি করছি। এবার করোনাভাইরাসের কারণে সম্ভবত লোক জড়ো করে উৎসব করা যাবে না। সেক্ষেত্রে উৎসবের বিকল্প হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অনেকে। মন্ত্রণালয় এটি বিবেচনায় রেখেছে। তবে বই উৎসবের বিকল্প হিসেবে কি করা যেতে পারে সেই সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।’ এনসিটিবি আপাতত উপজেলা পর্যায়ে বই পাঠাতেই বেশি মনোযোগি বলেও জানান নারায়ন। এনসিটিবিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত দেশের ৩৯ জেলার ১৮০টি উপজেলায় প্রাথমিকের দুই কোটিরও বেশি বই হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৪ কোটির মতো বই ঢাকার বাইরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে আরও দুই কোটি বই। বিজয় দিবসের আগ পর্যন্ত সব বই পাঠিয়ে দেওয়া হবে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পাবে প্রায় ১০ কোটি ৫৪ লাখ বই। এছাড়া মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা বই পাবে ২৪ কোটি ৪১ লাখ। এসব বই ছাপাতে সরকার খরচ করছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। যা গতবছরের খরচের কাছাকাছি। তবে এই পরিমাণ টাকা খরক করা হলেও বই ছাপানোর দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন প্রেসের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল শুরুতে। অভিযোগ এসেছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পক্ষ থেকেও। বিষয়টি তদন্ত করতে একটি কমিটিও গঠন করেছিলেন অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মোহাম্মদ মনসুরুল আলম। পরে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিটিবির চেয়ারম্যান কর্মকর্তাদের কঠোর হতে বলেন। পরে বিষয়টির সমাধান হয়। এ ব্যাপারে নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, বই ছাপানো নিয়ে কোনো প্রকারের অনিয়ম সহ্য করা হয়নি। এনসিটিবি এই বিষয়ে সবসময় সতর্ক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ভালো মানের নতুন বই শিশুদের জন্য উপহার স্বরুপ। এতে করে তারা আলাদা করে প্রেরণা পায়। আমরা এই উৎসাহটি কখনোই বন্ধ করবো না। ফলে বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তোলে দিতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’ এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘আমাদের বই তৈরি আছে। করোনার কারণে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে না পারলে বিকল্প পদ্ধতিতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি বই পৌঁছে দেওয়া যায়নি সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।’ উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার ২০১০ সাল থেকে বছরের প্রথম দিন উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছে। গেল বছর পর্যন্ত ৩৬৬ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৬টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.