মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা : সুচি গ্রেফতার

0

ডেস্ক রিপোর্ট: মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক দেশটির রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট ও ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি গ্রেফতার হয়েছেন। ১ ফেব্রুয়ারি সোমবার ভোরে সেনাবাহিনীর অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেন।এছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে শাসক দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে। এক বছরের জন্য জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে বলেছে, মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো তথা অনানুষ্ঠানিক প্রধান সু চি-কে গ্রেফতার করার পর এক বছরের জন্য দেশটিতে জরুরি জারি করেছে সেনাবাহিনী। সরকারি টেলিভিশনে প্রচার করা এক বার্তায় এ কথা জানানো হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল এনএলডির মুখপাত্র মায়ো নিউন্ট জানান, অং সান সু চি, রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সোমবার ভোরে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও সুচি গ্রেফতার হওয়ায় আশঙ্কা করা হচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হবে।
কে এই অন সাং সু চি:
অং সান সু চি বার্মিজ ভাষায় যার উচ্চারণ আওঁ সাঁ সু চি। তিনি বর্মী রাজনীতিক, কূটনীতিক, এবং লেখিকা যিনি মিয়ানমারের প্রথম ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা এবং ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির নেত্রী। তিনি দেশটির ডি ফ্যাক্টো তথা অনানুষ্ঠানিক প্রধান হিসেবেই ব্যাপকভাবে পরিচিত। এছাড়াও প্রথম নারী হিসেবে সু চি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মন্ত্রী, বিদ্যুৎশক্তি ও ক্ষমতা বিষয়ক মন্ত্রী, এবং শিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে প্রেসিডেন্ট টিন চাঅয়ের কেবিনেটে কাজ করেন।
আধুনিক মায়ানমারের জাতির জনক অং সান এবং খিন চির কন্যা সু চির জন্ম হয় ব্রিটিশ বার্মার রেঙ্গুনে। ১৯৬৪ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৯৬৮-তে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক অর্জন করার পর তিনি জাতিসংঘে তিন বছর কাজ করেন। ১৯৭২ সালে মাইকেল অ্যারিসকে বিয়ে করেন এবং তাদের দুই ছেলে হয়। ১৯৮৮-র গণআন্দোলনের সময় সু চি সবার নজর কাড়েন এবং ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) সাধারণ সম্পাদক হন; সেসময় সদ্যগঠিত দলটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামরিক জান্তার বিরোধী অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। সু চির দল ২০১০ সালের নির্বাচন বয়কট করে, যা সেনাসমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বিজয় এনে দেয়। ২০১২ সালের উপনির্বাচনে তিনি সংসদের নিম্নকক্ষের এমপি নির্বাচিত হন এবং তার দল ৪৫টি ফাঁকা আসনের মধ্যে ৪৩টিতে জয়লাভ করে। ২০১৫ সালের জাতীয় নির্বাচনে তার দল ভূমিধ্বস বিজয় অর্জন করে, অ্যাসেমব্লি অব দি ইউনিয়নের (সংসদ) ৮৬ শতাংশ আসন অর্জন করে; যদিও প্রেসিডেনশিয়াল ইলেকটোরাল কলেজে তাদের প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি ও দ্বিতীয় উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচনের জন্য ৬৭ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ট ছিল। সু চির প্রয়াত স্বামী ও সন্তানেরা বিদেশি নাগরিক হওয়ায় সংবিধান অনুসারে তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না। তাই তিনি নবপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা পদটি গ্রহণ করেন যা কিনা প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধানের সমান। গণতন্ত্র ও মানবতার পক্ষে সংগ্রামের জন্য তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার (১৯৯১) সহ আরো অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন, যদিও রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তার ভূমিকা তীব্রভাবে সমালোচিত।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.