শরণার্থী হতে চাইছে লাখো মানুষ

0

 

 

ডেস্ক রিপোর্ট: তীব্র শীত থেকে বাঁচতে চার বছর বয়সী আঝি তার মায়ের হাত ধরে পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্তের অভিবাসন কেন্দ্রে আছে অনেক দিন। কেন্দ্রের দীর্ঘ লোহার দেয়াল আর বিশালাকার সব অবকাঠামোর মধ্যে আঝির মতো বহু শরণার্থী অপেক্ষা করে আছে। কবে নাগাদ এই অপেক্ষার শেষ হয়ে কাক্সিক্ষত দেশে তারা প্রবেশ করতে পারবে, তা কেউ বলতে পারে না। কারণ তাদের ভাগ্য এখন কিছু রাজনীতিকের হাতে বন্দি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অনেক শরণার্থী বেলারুশ থেকে পোল্যান্ডে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যে করেই হোক তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের শরণার্থী হতে চাইছে। এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নাগরিক। যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদন বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে প্রবেশের হিড়িক দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরাক। এই তিনটি দেশে কার্যত অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ হলেও অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ। ভূরাজনৈতিক ডামাডোলের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো একে অপরকে সাহায্যও করতে পারছে না। কারণ এক্ষেত্রে মানবিকতার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে হিংসাত্মক মানসিকতা। সম্প্রতি এক জরিপ বলছেÑ সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরাকের ২০০ মিলিয়ন তরুণ-তরুণী অভিবাসনে ইচ্ছুক। ২০২০ সালে এই সংখ্যা ছিল আরও বেশি। বলা হচ্ছে, আরব অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মের অর্ধেকই আর নিজেদের দেশে থাকতে চাইছে না। এই থাকতে না চাওয়ার কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা যুদ্ধপরবর্তী দুরবস্থাকে দায়ী করছেন। সিরিয়ার এখন ৯০ শতাংশ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাই খারাপ। ক্রমশ এই অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। ইউএনডিপি প্রতিনিধি রামলা খালিদি সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা সেই সব মানুষের কথা বলছি যাদের সামান্য উপার্জন, কাজ করে খেতে হয়। এদের অধিকাংশই প্রতিদিনকার খাবারের চাহিদা পর্যন্ত মেটাতে পারছে না। তারা খাবার খেতে পারছে না, ঋণের জালে বন্দি হচ্ছে। অপুষ্টি অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনৈতিক এই দুরবস্থার জন্য পশ্চিমা দেশগুলো দায়ী। একদিকে পশ্চিমা আগ্রাসনে ছিল দেশগুলো। তারপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধের শিকার হচ্ছে দেশগুলো। এই অবরোধের কারণে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যও করা যাচ্ছে না। বিকল্প হিসেবে কালোবাজারের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। এতে আয়ের অধিকাংশ অর্থই চলে যাচ্ছে কালোবাজারিদের হাতে। ইরাকের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। দেশটির কিছু অংশে এখনো বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী দলের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত আছে। সম্প্রতি ইরাকে আইএস (ইসলামিক স্টেট) বিরোধী লড়াই সমাপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এতদিন ইরাকের বিভিন্ন খাতে যে ভর্তুকি দিত, তাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ইরাকের রাস্তায় তরুণ প্রজন্ম নেমে এসেছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে। তখন নতুন করে দেশটির রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়। শিয়াপন্থি নেতা মুক্তাদা আল সদরের ক্ষমতা বাড়তে থাকে, যা সৌদির জন্য চিন্তার কারণ। ইরাকে শিয়া উত্থান ঠেকাতে সৌদি আরবসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ উদ্যোগ গ্রহণ করলেও ইরাকের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না দেশগুলো। অথচ ওই দেশগুলোর বোমার আঘাতেই ইরাক তার সব হারিয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.