১০ টাকা কেজির চাল পচা

0

ডেস্ক রিপোর্ট: মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নাওভাঙা গ্রামের দরিদ্র গৃহিনী রেবেকা বেগম বেশ কিছু দিন ধরে ডায়রিয়া, বমি, পেটের ব্যথায় ভুগছেন। পাঁচ দিন পার হলেও অসুস্থতা কমেছে না।  একই অবস্থা ওই গ্রামের মধ্যপাড়া গোলাম রসূল, আকরাম আলী, আক্কাস আলী, সুলতান মোল্ল্যা, সাহানা বেগমসহ আরো অনেকের। অন্যের জমি চাষ করে চলে রেবেকার সংসার। পেটের অসুস্থতা নিয়ে বাড়িতে পড়ে আছেন। ১০ টাকা কেজি দরের চালের ভাত খাওয়ার পর থেকে এমন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন রেবেকাসহ ওই গ্রামের দরিদ্র কিছু মানুষ। মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর এবং রাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এ রকম অনেকের অসুস্থতার কথা জানা গেছে। যারা প্রত্যেকেই খাদ্যবান্ধব কমসূচির আওতায় ১০ টাকা দামের চাল সংগ্রহ করেছেন। আর এসব চাল সরবরাহ করা হয়েছে মাগুরা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অধীনে বিনোদপুর খাদ্যগুদাম থেকে। নাওভাঙা গ্রামের অসুস্থ রেবেকা বেগমের ছেলে বলেন, অভাবের সংসার আমাদের। বাবা মারা গেছেন পাঁচ বছর হয়েছে। আম্মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে এবং এনজিও থেকে লোন নিয়ে ভ্যান গাড়ি কিনেছি। অনেক কষ্টে চলে আমাদের সংসার। ৫০ টাকা কেজি দরে চাল কিনে খেতে পারি না, তাই ১০ টাকা কেজি দরের চাল কিনে এনেছে আম্মা। সেই চালের ভাত খেয়ে আম্মা বেশ কিছুদিন ধরে পেটের ব্যথা ও জ্বরে ভুগছেন। সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দেশি চালের মত দেখতে বাজারের যেকোন চালের চেয়ে আকৃতিতে বড় ও লম্বা গন্ধযুক্ত এসব চালের ভাত থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ভাত রান্না করার এক ঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে পচে খাওয়ার অনুযোগী হয়ে পড়ছে। নষ্ট ভাতগুলো ফেলে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় দেখছেন না। একই গ্রামের আকামত আলী বলেন, করোনা ভাইরাস বেড়ে যাওয়ায় আবার শুরু হয়েছে খাদ্যবান্ধ ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রি। বেশ কিছুদিন ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি বন্ধ ছিলো। আবার শুরু হয়েছে।  নাওভাঙা গ্রামের সাহানা বেগম বলেন, আমরা দরিদ্র বলেই ১০ টাকা কেজি দরে চাল কিনে খাই। সেই চাল রান্না করার কিছুক্ষণ পরেই নষ্ট হয়ে যায়। পচে দুরগন্ধ হয়। খাওয়া যায় না। রাড়ীখালী ও বিনোদপুর ঘুরে দেখা যায়, বিনোদপুর ও রাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলো ডিলারের কাছ থেকে সংগৃহীত চাল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। জেলা খাদ্য বিভাগের অধীনে বিনোদপুর খাদ্যগুদাম থেকে সরবরাহকৃত এসব চাল ওই দুটি ইউনিয়নের চার জন ডিলারের মাধমে মোট ১ হাজার ৫৪২ জন দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিরতণ করা হয়েছে। রাজাপুর ইউনিয়নে রাড়ীখালী বাজারের অনুমোদিত ডিলার স্বপন কুমার রায় বলেন, ৩০ কেজি করে চাল একেকটি বস্তায় সেলাই করা। গুদাম থেকে যেমন দেওয়া হয়েছে তাই বিতরণ করা হয়েছে। মান আগের চেয়ে খারাপ। আগে কখনও এমন চাল দেওয়া হয়নি। আমরা গুদাম থেকে যে চাল পেয়েছি সেটাই বিক্রি করেছি। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। মাগুরা খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন ডিলার ও চালকল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিনোদপুর গুদাম থেকে সরবরাহকৃত এরকম চাল মাগুরার কোথাও উৎপাদন হয় না। কিন্তু ওই গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পঙ্কজ প্রমাণিক নিজস্ব ব্যবসায়ীর মাধ্যমে মাগুরার বাইরে গোপালপুর বাজার থেকে এ চাল সংগ্রহ করেছেন। বিনোদপুর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা পঙ্কজ প্রামাণিক নিম্নমানের চাল বরাদ্দের বিষয়টি স্বীকার করলেও কীভাবে এ সব চাল তার গুদামে ঢুকেছে সেটি মনে করতে পারছেন না বলে জানান। তবে ভবিষ্যতে চাল মজুদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন বলেও জানান তিনি। মাগুরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাফিজুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, কিভাবে বিনোদপুর গুদামে নিম্নমানের চাল ঢুকেছে তা আমার জানা নেই। আর এ বিষয়ে কারো থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। যদি বাইরে থেকে চাল কেনার বিষয়টি প্রমাণিত হয় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। মহম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর বিশ্বাস জানান, গোডাউন থেকে চালের বস্তা ডিলারদের দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষ ১০ টাকা কেজি দরে সেই চাল কিনে নেয়। গোডাউন থেকে পচা দুর্গন্ধ চাল দিলে আমরা কি করবো। আমরা তো আর চালের বস্তা খুলে দেখতে পারি না। তবে রাড়ীখালী গ্রামের কোনো মানুষ আমার কাছে অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যস্ত নেওয়া হবে। বিনোদপুর খাদ্য গোডাউন থেকে চাল সংগ্রহ করে রাড়ীখালী ডিলাররা ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের সুনাম নষ্ট করার জন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এমন কাজ করে থাকতে পারে। বাংলানিউজ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.